• রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১১ পূর্বাহ্ন
  • Bangla Converter
সংবাদ শিরোনাম
সোনারগাঁয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে এস এম ওয়ালিউর রহমান আপেলের মতবিনিময় অসুস্থ বিএনপি নেতা খন্দকার মনিরুলের পাশে সাদরিল, বাসায় গিয়ে নিলেন খোঁজখবর সমকাল জাতীয় বিজ্ঞান বিতর্ক উৎসব নারায়ণগঞ্জ সদর থানা মহিলা দলের ‘সুপার ফাইভ’ কমিটি ঘোষণা, আহ্বায়ক লিপি খন্দকার শিক্ষায় বিনিয়োগ ব্যয় নয়, ভবিষ্যতের ভিত্তি: হাবিবুর রশিদ হাবিব খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হওয়ায় আবুল কালামকে সোহাগের অভিনন্দন নরসিংদী জেলা পুলিশ সুপারে কর্মরত এসপি আব্দুল আজিজের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের আহ্বায়ক হাজী মোঃ মাহাবুব রহমান জামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী জাকির হোসেন বাবুর গণসংযোগ নারায়ণগঞ্জে এনসিপির স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন ফ্লাওয়ার মিল মালিকদের সংগঠনের বাণিজ্যিক সংগঠন হিসেবে সরকারি লাইসেন্স নিলেন সোহাগ

আজমেরী ওসমানের সহযোগী চেকার ফারুকের নেতৃত্বে গোদনাইল পদ্মা ডিপোতে তেল চোর সিন্ডিকেট পুনরায় সক্রিয়

কালান্তর ডেস্ক / ১৬৮ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬

ফ্যাসিস্ট আ.লীগের দোসর পতিত ওসমানীয় সামাজ্যের কর্ণধান আজমেরী ওসমানের সহযোগী চেকার ফারুকের নেতৃত্বে গোদনাইল পদ্মা ডিপোতে তেল চোর সিন্ডিকেট পূনরায় সক্রিয় হবার অভিযোগ উঠেছে। আ.লীগ সরকার পতনের পর ফ্যাসিস্ট ফারুককে ঢাকায় বদলী করা হয়। বর্তমানে গোদনাইল পদ্মা ডিপোতে পুনরায় ফিরে এসে বিভিন্ন অপরাধের জন্য পানির পাম্পে ফারুককে কাজ দিলেও সেখানে বসেই মোবাইল ফোনে ফোনে রবি ওরফে মাইগ্যা রবির মাধ্যমে ডিপোতে তেল চোর সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রন করছে।

 

কে এই রবি: মাইগ্যা রবি হল চেকার ফারুকের অন্যতম শিষ্য। যে ডিপোর যত তেল চোর আছে সকলের ক্যাশিয়ার। তাকে মাইগ্যা রবি বলে ডাকলেও সকলেই তাকে ক্যাশিয়ার রবি হিসেবে চিনে। ফ্যাসিস্ট আ.লীগ আমলে তৎকালীন জ্বালানী প্রতিমন্ত্রীর এলাকার লোক হওয়ায় সাবেক প্রতিমন্ত্রীর সুপারিশে গোদনাইল পদ্মা ডিপোতে চাকরির সুযোগ পায়। এরপর থেকে তাকে আর পিছনে তাকাতে হয়নি। চেকার ফারুক যখন ডিপোর চেয়ারম্যান ছিলো তখন তার  সহযোগীতা ডিপোর সকল পয়েন্টে প্রভাব বিস্তার করে। বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট আ.লীগের পতন হলেও ক্যাশিয়ার রবি ওরফে মাইগ্যা রবির পতন হয়নি। ফারুকের বদলী হলেও মাইগ্যা রবি রয়ে গেছে বহাল তবিয়তে। সেই ফ্যাসিস্ট আমলের ন্যায় এখনো গোদনাইল পদ্মা ডিপোতে সকল পয়েন্টে প্রভাব বিস্তার করে বলে অভিযোগ উঠেছে। কোন ট্যাংকলরীতে কত লিটার তেল বাহির হবে তা এখনো নির্ধারন করে এই মাইগ্যা রবি। আরো জানা যায়, মাইগ্যা রবি ক্যাজুয়েল ষ্ট্যাফ হয়েও নাসিক ৭নং ওয়ার্ডে মঞ্জিল ভিলায় বিশাল ফ্ল্যাট নিয়ে ভাড়া থাকে যার মাসিক ভাড়া ৩০ হাজার টাকা বলে জানা গেছে। অভিযোগ উঠেছে, যার মাসিক বেতন সাড়ে আট হাজার টাকা সে কিভাবে শুধু বাসা ভাড়াই ৩০ হাজার টাকা দিয়ে থাকে। তার বাড়ী কেরানীগঞ্জে কয়েক কোটি টাকার সম্পত্তি রয়েছে যা বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তার এই বিলাসবহুল জীবনে এত টাকা কোথা থেকে আসে। ডিপোতে অবৈধ পন্থা আর দুর্নীতি ছাড়া এতো টাকা কামানো রবির সম্ভব নাই বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।

 

এদিকে ব্যবসায়ীরা ক্ষোভের সাথে জানান, মাইগ্যা রবির ডিপো থেকে অপসারন না হলে চেকার ফারুক ফ্যাসিস্ট হয়ে পানির পাম্পে থাকলেও তেল চোর সিন্ডিকেট ভাঙ্গবে না। চেকার ফারুকের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ ডিপোর দুর্নীতিও বন্ধ হবেনা। অভিযোগ রয়েছে, চেকার ফারুক আ.লীগের আমলে ডিপোতে তেল চুরি করতে গিয়ে তালাশ টিভির ৩৫৮ নাম্বার পর্বে তার বিস্তারিত ধরা পড়লে অবশেষে ডিপো কর্মকর্তা বাধ্য হয়ে তাকে ঢাকা ডিপোতে বদলী করে দেয়। ঢাকাতে বদলী হলেও চেকার ফারুক তার সহযোগী মাইগ্যা রবির দ্বারা একজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর মাধ্যমে তেল চুরি সিন্ডিকেট বহাল রাখে। এই তেল চুরির টাকার ভাগ প্রতি মাসে সাবেক কাউন্সিলর খোকনও আজমেরী ওসমানের সহযোগীরা এবং স্থানীয় আ.লীগ নেতারা ভাগ পেতো বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ফ্যাসিস্ট আ.লীগ আমলে চেকার ফারুকের বিরুদ্ধে কেহ কথা বললে তাকে প্রশাসন দিয়ে হামলা-মামলা দিয়ে হয়রানী এবং ষড়যন্ত্র করতো। বর্তমানে বিএনপি ক্ষমতায় থাকলেও চেকার ফারুকের আবার নতুন করে উত্থান হয়েছে বলে অভিযোগ করেন কয়েকজন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা। এখনো সেই ফ্যাসিস্ট আমলের মতো কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বললে তাকে প্রশাসন দিয়ে হুমকী-ধামকী ও হয়রানী করার অভিযোগ উঠেছে। যার ফলে প্রশাসনের ভয়ে ফারুকের বিরুদ্ধে কথা বলতে কেহ সাহস পায়না বলে অভিযোগ উছেঠে। তাদের প্রশ্ন. ফ্যাসিস্ট আ.লীগের দোসর চেকার ফারুকের বর্তমানে শেল্টারদাতা কে? এ ব্যাপারে তারা অভিযোগ করেন, জেলা বিএনপি’র এক শীর্ষ নেতা এবং সাবেক শীর্ষ এক ছাত্রনেতাকে প্রতি মাসে মোটা অংকের মাসোহারা দিয়ে চেকার ফারুক এখনো বহাল রয়েছে। এদিকে চেকার ফারুকে প্রকাশ্যে বলে বেড়াচ্ছে স্থানীয় সংসদ সদস্যের তদবীরে সে ঢাকা থেকে পদ্মা ডিপোতে এসেছে। সে যে সংসদ সদস্যের নাম ভাঙ্গছে তার জন্য স্থানীয় বিএনপি নেতারা তার উপর ক্ষুব্ধ। অভিযোগ উঠেছে, চেকার ফারুকের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ, সোনারগাঁ এবং যাত্রাবাড়ী থানায় একাধিক বৈষম্য বিরোধী মামলা থাকার পরও মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সেগুলো থেকে খালাস পাবার চেষ্টায় রয়েছে। যদিও মামলাগুলো বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। গোদলাইলের বৈধ ব্যবসায়ীদের দাবী পদ্মা ডিপোর দুর্নীতি বন্ধ করতে এবং সরকারের কোটি কোটি টাকার তেল চুরি থেকে রক্ষা করতে প্রশাসন ও উচ্চ পর্যায়ের গোয়েন্দা নজরদারী প্রয়োজন।

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..