শিক্ষায় বিনিয়োগ কোনো ব্যয় বা অপচয় নয়, বরং এটি ভবিষ্যতের ভিত্তি বলে মন্তব্য করেছেন হাবিবুর রশিদ হাবিব এমপি। তিনি বলেছেন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন রাষ্ট্রের দৃশ্যমান অগ্রগতির প্রতীক হলেও শিক্ষিত, দক্ষ ও মানবিক জনশক্তিই সেই উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর গোড়ান-খিলগাঁও এলাকার শান্তিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আশরাফ উদ্দিন রুবলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, আজ যে সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে, তা শুধু একটি পুরস্কার নয়; এটি শিক্ষার্থীদের পরিশ্রম, মেধা ও প্রজ্ঞার স্বীকৃতি। একই সঙ্গে এটি তাদের ভবিষ্যতের প্রস্তুতি এবং তাদের সম্ভাবনার প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীক।
তিনি বলেন, “মেধাবী হলেই চলবে না, শুধু ভালো ফলাফল করাটাই জীবনের চূড়ান্ত সাফল্য নয়। মেধা মানুষকে এগিয়ে দেয়, কিন্তু সততা, মানবিকতা ও নৈতিক মূল্যবোধ মানুষকে সত্যিকারের মহান করে তোলে। তাই ভালো শিক্ষার্থী হওয়ার পাশাপাশি ভালো মানুষ হতে হবে।”
শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি বিনয়, সহমর্মিতা, দায়িত্ববোধ, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জীবনে সফলতার জন্য লক্ষ্য নির্ধারণ ও কঠোর পরিশ্রমের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে না পৌঁছানো পর্যন্ত হাল ছাড়া যাবে না। আলেকজান্ডার দ্য গ্রেটের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, “যে চেষ্টা করে, তার কাছে কিছুই অসম্ভব নয়।”
শিক্ষার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষা মানুষের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশের মূল উপাদান। এই আদর্শকে সামনে রেখে একটি আধুনিক, যুগোপযোগী ও মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে।
হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, সড়ক-সেতু, স্কুল-কলেজ ও বিভিন্ন অবকাঠামো রাষ্ট্রের দৃশ্যমান উন্নয়নের প্রতীক। কিন্তু শিক্ষিত ও মানবিক জনশক্তিই সেই উন্নয়নের চালিকাশক্তি। আর সেই জনশক্তি তৈরি করে শিক্ষা। তাই “শিক্ষায় বিনিয়োগ ব্যয় নয়, কোনো অপচয় নয়—এই বিনিয়োগ ভবিষ্যতের ভিত্তি।
তিনি জানান, শিক্ষা খাতে জিডিপির ২ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে এবং তা ক্রমান্বয়ে ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ জনগোষ্ঠী গড়ে তুলতে দেশে ১০ হাজার ৩৪০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২০ হাজার ৬৮০টি মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া ১ লাখ ১৬ হাজার শিক্ষার্থীকে ট্যাব বিতরণ এবং ১৯ হাজার মাধ্যমিক স্কুলছাত্রীর মধ্যে পিঙ্ক কালারের সাইকেল বিতরণের বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে বলে জানান তিনি। আগামী বছরের মধ্যে দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল বা দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...