নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় দায়ের করা চাঁদাবাজি মামলায় কাঁচপুর ইউপির কুতুবপুর এলাকার কুদরত আলীর ছেলে সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সদস্য বিএম ডালিমকে(৫০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৫আগস্ট) নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আবদুস সামাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এদিকে ডালিমের গ্রেফতারের বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিন্নমত প্রকাশ করে আসছেন ডালিমের সমর্থকরা। কখনো দাবি করছেন না ডালিম আত্মসমর্পণ করে কারাগারে গিয়েছেন আবার কখনো বলছেন তিনি আত্মসমর্পণ এর প্রস্তুতি নিয়েছেন এখনো তিনি আত্মসমর্পণ করেননি।
এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিএম ডালিম নামে একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে খোলা চিঠি নামক একটি স্ট্যাটাস প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে,’আমি বি এম ডালিম,সোনারগাঁও থানা জাসাসের সাবেক সভাপতি, কাচপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সদস্য । ২০১০-২০১৫ পর্যন্ত ফ্যাসিস্ট সরকার আমাকে অনেকগুলো মিথ্যা মামলার আসামি করে। একাধিক বার আমার বাড়ীতে অভিযানের নামে অত্যাচার করে । এরই মধ্যে হেফাজত ইসলামের ৫ই মে এর ঘটনায় পাঁচটি মামলা এবং ৯ ডিসেম্বর ২০১২ সালে দ্রুত বিচার আইনের মামলা আমার নামে দায়ের করা হয়। আমি আইনের আদালত কে সম্মান জানিয়ে আদালতে হাজিরা দিতে যাই অতঃপর আদালত আমাকে জামিন না দিয়ে হাজতে প্রেরণ করেন। পরবর্তীতে ২৫ দিন জেল খাটার পর আমি মুক্তি পাই। কিন্তু তখন জানতে পারি আমাকে জেল গেট থেকে গ্রেফতার করার জন্য র্যাব এবং ডিবি পায়তারা করছে । তখন আমি সুকৌশলে একটি মটরবাইক দিয়ে পালিয়ে আসি । এরপর থেকে আর কোনদিন আমি শেখ হাসিনার আদালতকে সম্মান দেইনি, কারণ আমি জানতাম এই আদালত ও আইন জনগণের নয় , এই আইন আদালত শেখ হাসিনার আইন আদালত ও আওয়ামী লীগের আদালত। সুতরাং শেখ হাসিনা ও আওয়ামী নেতা শামীম ওসমান যে রায় দিবে সেই রায় ই আদালত থেকে কার্যকর করা হবে। এই কারণে আমি আওয়ামী লীগের আদালতকে প্রত্যাখ্যান করে পরবর্তী কোন মামলার হাজিরা দিতে যাইনি। আমি অপেক্ষায় ছিলাম যেদিন জনগণের সরকার ও আইন প্রতিষ্ঠিত হবে সেদিন আমি নিজ থেকে আত্মসমর্পণ করব। যদি আমি তখন নিজেকে আত্মসমর্পণ করতাম আমারও একই পরিণতি হত যেমনটা হয়েছিল দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার, দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর ও নাসিরুদ্দিন আহমেদ পিন্টু ও হাজার হাজার নেতাকর্মীর। আমরা সবাই জানি কিভাবে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দিনের পর দিন অত্যাচার করা হয়েছিল কিভাবে তাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল , তার খাবারের বিষ মিশিয়ে ও বিভিন্নভাবে তাকে অত্যাচারে জর্জরিত করা হয়েছিল। ঠিক একইভাবে দেলোয়ার হোসেন সাঈদী, পিন্টু ও অনেক নেতা কর্মীর একই পরিণত হয়েছিল। তখন যদি আমি আত্মসমর্পণ করতাম আমাকে হয়তো তাদের মত হত্যা করা হতো। এখন আপনারা জিজ্ঞাসা করতে পারেন হাসিনা পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার থাকাকালীন কেন আমি আত্মসমর্পণ করিনি বা কেন আমি জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরও নিজেকে আত্মসমর্পণ করিনি, কারণ আমি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকেও বিশ্বাস করতাম না যে সরকারের ক্ষমতায় থাকার কথা ছিল তিন মাস সেই সরকার ক্ষমতায় ছিল ১৮ মাস যদি এই সরকার পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকতো তাহলে আমাকে পাঁচ বছর জেলে পচতে হত। আর ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ছয় দিন পর রোজা শুরু হয় ভেবেছিলাম রোজার ঈদের পর আত্মসমর্পণ করব কিন্তু তার কিছুদিন পরেই আমার হজের তারিখ পড়ে। হজ থেকে এসে আমি নিজেকে আত্মসমর্পণ করার সিদ্ধান্ত নেই এমতাবস্থায় এমপি পুত্রের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। মিথ্যা অভিযোগের দায়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেয়া হলে সাথে আমিও যাই তখনই কিছু আওয়ামী হলুদ সাংবাদিক টাকার বিনিময়ে আমার ছবিটি এইভাবে ভাইরাল করে। আমি সর্বদা চাঁদাবাজী এবং দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে আসছি । হাসিনা আমলে আমি এবং আমার পরিবার ঘড় বাড়ী হারিয়ে। আমাকে দমন করার জন্য কতিপর চাঁদাবাজ দখলদার আমার নামে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করছে । আমাকে কোনোভাবে বিতর্কিত করতে না পেরে, তারা মিথ্যার আশ্রয় নিচ্ছে এবং সকলের জানা একটি রাজনৈতিক মামলাকে নতুন করে উপস্থাপন করছে।বর্তমানে যে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে জনগণের নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তার প্রমাণ হচ্ছে ফ্যাসিস্ট সরকার আমলের মেয়র সেলিনা হায়াত আইভীর জামিন হওয়া যার মাধ্যমে এইটাই প্রমাণ হয় যে বর্তমান আদালত ও আইন নিরপেক্ষ। তাই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমি নিজ থেকে আত্মসমর্পণ করবো। ইনশাআল্লাহ সত্যের বিজয় হবে’।
এদিকে ডালিম কারাগারে সংবাদ প্রচারিত হওয়ার পর থেকেই ডালিমের তৃতীয় বিয়ের বিষয়টি আলোচিত হতে থাকে। বিএম ডালিমের বিরুদ্ধে প্রতারণা করে বিয়ে করার অভিযোগ করেছেন বিধবা এক নারী। ফারজানা আক্তার কানন নামে ওই নারীর অভিযোগ, ডালিম তাকে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে বিয়ে করেছে। কিন্তু পরে সে বিয়ের স্বীকৃতি দিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করে। এমনকি তার আগের স্ত্রীও মুঠোফোনে ওই নারীকে হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন কানন। তিনি বলেন, “আমার অসহায়ত্বের সুযোগে প্রতারণা করেছে ডালিম। আমি স্বীকৃতির চাওয়ায় ডালিম ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছে। আমি নিরাপত্তা চাই। একই সাথে স্ত্রীর স্বীকৃতিও চাই।”
এদিকে স্থানীয় সূত্র বলছে, লিটন হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী ছিলেন বিএম ডালিম। ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী হয়েও প্রকাশ্যে ঘুড়ে বেড়াতেন ডালিম সম্প্রতি কাঁচপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে বিভিন্ন ভাবে প্রচার প্রচারণায় তৎপর ছিলেন। সূত্র নিশ্চিত করেছে, ২০১৪ সালের ২৬ অক্টোবর খুন হন একই এলাকার ৩০ বছর বয়সী লিটন। দুইদিন পর নিহতের বড়বোন রাশিদা বেগম সোনারগাঁ থানায় ২৩ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই হত্যা মামলার দুই নম্বর আসামি ছিলেন বিএম ডালিম। মামলাটি এখনো বিচারাধীন থাকলেও উক্ত মামলায় ডালিমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা থাকলেও প্রশাসনকে বৃদ্ধঙ্গুলি দেখিয়ে চলতেন। গত ২১জুন চাঁদাবাজির অভিযোগে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে আটক হন নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খাইরুল ইসলাম সজীব। সজীবকে ঢাকা থেকে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আনা হলে সেখানে দেখা যায় হত্যা মামলার পলাতক আসামি মো. ডালিমকে। এছাড়া সজীবকে যখন জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ের দিকে নেওয়া হয় তখনও তিনি এসপির কার্যালয়ে ছিলেন। ওই সময় সাংবাদিকদের ক্যামেরায় দেখা যায় বিএম ডালিমকে।
ডালিমের গ্রেফতারের বিষয়ে কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আবদুস সামাদ বলেন, বন্দর থানার চাঁদাবাজির একটি মামলায় বিএম ডালিমকে গ্রেফতার করা হয়। ইতিমধ্যেই তাঁকে চালান করা হয়েছে। তবে বিস্তারিত এবং নির্দিষ্ট মামলার বিবরণ সম্পর্কে জানা নেই। বন্দরে চাঁদাবাজি মামলায় বিএম ডালিম গ্রেফতারের একটি ফরওয়ার্ডিং পেয়েছি।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...